প্রকাশিত: Sat, Feb 17, 2024 9:58 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 6:32 PM

[১]মিয়ানমারে প্রচণ্ড গোলাগুলি, এপারে কাঁপছে বসতবাড়ি

জিয়াবুল হক : [২] শুক্রবার ভোর থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন সীমান্তে ভারী মর্টারশেলের শব্দ পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। 

[৩] জানা যায়, উপজেলার নাফনদী সীমান্ত এলাকা হ্নীলা থেকে দমদমিয়ার ৮,৯ ও ১০ নম্বর পিলার এবং সাবরাংয়ের ৩-৭ নম্বর পিলারের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের মধ্যে সংঘর্ষে মর্টারশেল, গুলির শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফের হ্নীলা, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন।

[৪]  টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল  মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, নাফনদীর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির খবর পেয়েছি। ফলে আমরা টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ-সেন্টমার্টিনসহ সীমান্তে টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছি। এ ছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে শাহপরীর দ্বীপের ওপারে মিয়ানমারের মংডুতে হেলিকপ্টার ওড়ার খবর পেয়েছি।

[৫] তিনি আরও বলেন, সীমান্তের ওপারের গ্রামগুলোতে দেশটির জান্তা সরকার এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। দুপক্ষই ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে। এতে সীমান্তে থাকা বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। তবে সীমান্তে আমাদের বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।

[৬] শাহপরীর দ্বীপের নাফনদীর সীমান্তে বসবাসরত মো. আমিন বলেন, টেকনাফ সীমান্তের ওপারে জান্তা সরকার এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাড়ছে। এতে সীমান্তের লোকজনের মধ্যে ভয় কাজ করছে। সকালে মর্টারশেলের ভারী শব্দে ঘুম ভেঙে গেছে। মনে হচ্ছে আমাদের বাড়ির ওপর পড়েছে। কারণ ওপারের বিকট শব্দে এপারে ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে।

[৭] সীমান্তের মানুষজন বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত চলছিল। মাঝপথে বন্ধ হলেও গত সপ্তাহ ধরে সীমান্তের জনপদ আবারও অশান্ত হয়ে ওঠে। 

[৮] টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  আদনান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের ওপারে গোলার শব্দ আমার বাড়ি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এটা সত্য, সীমান্তের মানুষের মাঝে ভয় কাজ করছে। তবে আমরা সীমান্তের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান